সিলেট, ৬ জুলাই : দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চালু হলো সিলেট–ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট। ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ার পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সোমবার (৬ জুলাই) বিমানবন্দরে এ রুট চালু রাখা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেন।
মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা ও উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হয়েছে। সিলেটবাসীর প্রতি সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রবাসী যাত্রীদের সুবিধার্থে চালু হওয়া এই সেবা ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে এবং যাত্রীসেবা আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সিলেট–ম্যানচেস্টার রুট ভবিষ্যতে বন্ধ হয়ে যাবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই রুটটি স্থায়ীভাবে চালু থাকুক। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিমান লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন এয়ারক্রাফট যুক্ত হলে এ রুটের ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না। সিলেট–ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগের ফল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতার মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।
হিথ্রো থেকে ঢাকা ও সিলেট রুটে ভাড়ার ব্যবধান (৭০০–৮০০ পাউন্ডের বিপরীতে প্রায় ১২০০ পাউন্ড) প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে সরকারের নজরে এসেছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। বিশেষ করে প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে ভাড়া কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট–ঢাকা রুটে টিকিটের মূল্য বৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে বেরিয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে। মধ্যবিত্ত যাত্রীদের স্বস্তিতে ভ্রমণের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।
এছাড়া সিলেট–কক্সবাজার রুট পুনরায় চালুর প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং রুটটি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প (এক্সটেনশন ফেজ) কবে নাগাদ শেষ হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের দিকে এটি সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রবাসী যাত্রীদের সুবিধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেটের পর্যটন খাত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিমান চলাচল নয়, বরং সিলেটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। এ অঞ্চলে অনেক সম্ভাবনাময় স্থান রয়েছে, যেগুলোকে পর্যটন হাব হিসেবে উন্নত করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

উৎফল বড়ুয়া :